ঘরে-বাইরে
মা গো, আজ মনে পড়ছে তোমার সেই সিঁথির সিঁদুর, সেই লাল-পেড়ে শাড়ি, সেই তোমার দুটি চোখ-শান্ত, স্নিগ্ধ, গভীর। সে যে দেখেছি আমার চিত্তাকাশে ভোরবেলার অরুণরাগরেখার মতো। আমার জীবনের দিন যে সেই সোনার পাথেয় নিয়ে যাত্রা করে বেরিয়েছিল। তার পরে? পথে কালো মেঘ কি ডাকাতের মতো ছুটে এল? সেই আমার আলোর সম্বল কি এক কণাও রাখল না? কিন্তু জীবনের ব্রাহ্মমুহূর্তে সেই-যে ঊষাসতীর দান, দুর্যোগে সে ঢাকা পড়ে, তবু সে কি নষ্ট হবার? আমাদের দেশে তাকেই বলে সুন্দর যার বর্ণ গৌর। কিন্তু যে আকাশ আলো দেয় সে যে নীল। আমার মায়ের বর্ণ ছিল শামলা, তাঁর দীপ্তি ছিল পুণ্যের। তাঁর রূপ রূপের গর্বকে লজ্জা দিত। আমি মায়ের মতো দেখতে এই কথা সকলে বলে। তা নিয়ে ছেলেবেলায় একদিন আয়নার উপর রাগ করেছি। মনে হত আমার সর্বাঙ্গে এ যেন একটা অন্যায়-আমার গায়ের রঙ, এ যেন আমার আসল রঙ নয়, এ যেন আর-কারও জিনিস, একেবারে আগাগোড়া ভুল। সুন্দরী তো নই, কিন্তু মায়ের মতো যেন সতীর যশ পাই দেবতার কাছে একমনে এই বর চাইতুম। রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের 'ঘরে-বাইরে' উপন্যাসের এই সূচনা অংশ পাঠককে নিয়ে যায় বিমলার অভ্যন্তরীণ জগতে, যেখানে মায়ের স্মৃতি, আত্মপরিচয়ের সংকট আর নারীর স্বাধীনতার প্রশ্ন জড়িয়ে থাকে।
| প্রকাশনী | : | দি ইউনিভার্সিটি প্রেস লিমিটেড (ইউ পি এল) |
| কভার | : | hardcover |
| ভাষা | : | bangla |
| ট্যাগ | : | বাংলাদেশি লেখকদের বই (নতুন) |
পুরাতন বইয়ের কন্ডিশন দেখতে অর্ডার করার পর আপনার অর্ডার আইডিটি আমাদের Messenger বা WhatsApp-এ ইনবক্স করুন।